শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মজারবিন্দু - ৬ : মেরেছি ছয় রান হয়েছে সন্ত্বান (ঁ)

গানের শিরোনামঃ পাশবালিশ
অ্যালবামঃ হুলাবিলা
.......................................

এই পৃথিবীর স্কুলে বাবা-মার ভুলে একদিন ভর্তি হলাম
চোখটা বুজে পেয়েছি বুঝে প্রেমিকা আমার গোলাম
না না চুল সে বাঁধে না, নাকে কাঁদে না
সে আমার পাশবালিশ
তার ফিগারটা খাশা যেন লারা-বিপাশা গুরু
সে আমার পাশবালিশ

কোথা দিয়ে ছেলেবেলা আমায় গেল ফেলে
বাবা গেল পার্টি আর মা চৈত্র সেলে
হামাগুঁড়ি দিয়ে দেখি আয়াটাও গেছে ভেগে
একলা ঘরেতে বসে ভয়েতে মুখ ফ্যাকাসে
কি হল যে দ্রুত বেগে, প্যান্টু ভিজে
করব কি যে, হাসছে পাশবালিশ
এই যে দোস্তি, কিছু অস্বস্তি
সবেতে পাশবালিশ
ডার্লিং পিলো চার আনা কিলো
কি দারুণ পাশবালিশ
আমারই লজ্জা শেখালো বজ্জাত
বখাটে পাশবালিশ

কলেজে গ্লাস কেটে আমিও কেটেছি ছক
মেয়েগুলো চোখে ধূলো আমাকে দেখালো বক
বন্ধুরা বার খায় আমিও খাই খানিক
আমারই কপাল ফুটো
জলে গেল চিঠি দুটো ডুবল টাইটানিক
বাড়িতে এসে বুকেতে ঠেসে ধরেছি পাশবালিশ
এটুকু টর্চায় এ বিনা খর্চায় দোসর পাশবালিশ
তার ফিগারটা চাবুক মল্লিকা-টাবু নায়িকা পাশবালিশ
প্রিয়তমা পিলো আহা কি দিলো বেচারি পাশবালিশ

এক রাতে মাকু হাতে আমিও ছাদনা তলা
সংসারে পাংচার ছলাকলা কাঁচকলা
পত্নীকে পেত্নি দেখি বাই ফোকালে দৃষ্টিভ্রমে
তা ছাড়া ক্রিকেট দেখি, একদিন কি হল একি
ছুটি রিমোট হাতে নার্সিংহোমে
মেরেছি ছয় রান হয়েছে সন্ত্বান
কেঁদে সে করছে নালিশ
তার জননী হাওয়া রয়েছে আয়া
আর আছে সেই পাশবালিশ
বাবা ও খোকা কমন প্রেমিকা দুজনে পাশবালিশ
তৃতীয় বিশ্ব আদতে নিঃস্ব গতি সেই পাশবালিশ

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মজারবিন্দু - ৫ : সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি (ঁ)

গানের শিরোনামঃ সকালে উঠিয়া
অ্যালবামঃ ডাকনাম
.................................................

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
গুড বয় হাতে নেয় বাজারের থলি

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
গুড বয় হাতে নেয় বাজারের থলি
রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে
আমি একা ল্যাজ নাড়ি সিঙ্গেল খাটে
সকালে উঠিয়া আমি বিছানা ছাড়িনি
খাড়া তুলে তাড়া করে বিপদতাড়িনী
জ্ঞান দাও, আলো দাও, বল দাও প্রভু
লেডিস সিটের ধারে দাঁড়াবো না কভু
জীবন ঝুঁকির গানে ঝুকছি না ঝুকব না
ক্রিকেট বুকির রানে খেলছি না খেলব না
অচেনা কুকির পানে দেখছি না দেখব না
ভুল হয়ে যায় তবু ঘুম থেকে উঠে বসে
থোড় বড়ি খাড়া পুরোনো পাজামা
পানসে চেহারা পারিনা মাসীমা
থোড় বড়ি খাড়া পুরোনো পাজামা
পানসে চেহারা পারিনা মাসীমা

সকালে উঠিয়া আমি তিনবার কাশি
দাঁত মেজে খোকা সেজে বাসি মুখে হাসি
বুক ব্যাথা পেট ব্যাথা থাকি মুখ বুজে
হনুমানে এনে দিক মেডিসিন খুঁজে
ভোর হোলো দোর খোলো ভাজো কালো আতি
প্রাতঃভ্রমণে যাবে দাদু নাতি হাতি
সম্বচ্ছর ব্যাপি এ সালতামামি
কাক ডাকে ভোরবেলা নাক ডাকি আমি
বলো একুশে আইন আমি মানছি না মানবো না
নিশানে লাইন আমি পারছি না পারবো না
ভ্যালেন্টাইন হতে বলছিনা বলব না বলব না
ভুল হয়ে যায় তবু ঘুম থেকে উঠে বসে
থোড় বড়ি খাড়া পুরোনো পাজামা
পানসে চেহারা পারিনা মাসীমা
থোড় বড়ি খাড়া পুরোনো পাজামা
পানসে চেহারা পারিনা মাসীমা

সকালে উঠিয়া দেখি বৃথা এ জোয়ানী
দাঁড়ে বসে ছোলা খায় ভাড়ে মা ভবানী

সকালে উঠিয়া দেখি বৃথা এ জোয়ানী
দাঁড়ে বসে ছোলা খায় ভাড়ে মা ভবানী
ছোলা ভাজা খেয়ে বড় বেদনা চোয়ালে
তবু মুখে বাঘ মারি পরনে তোয়ালে
দিনে পূরা টনি রাতে লায়নেল রিচি
বারো হাত কাঁকুড়ের তের হাত বিঁচি
খোঁচা মারো ঠেলা দেও এ জরদ গবে
পাঁজিতে লিখেছে কাল বিপ্লব হবে
ঠাকুমার ছেঁড়া ঝুলি খুলছি না খুলব না
ব্রিগেডের ব্রোজোবুলি শুনছি না শুনব না
নিয়মিত ব্যাগাডুলি খেলছি না খেলবো না
ভুল হয়ে যায় তবু ঘুম থেকে উঠে বসে
থোড় বড়ি খাড়া পুরোনো পাজামা
পানসে চেহারা পারিনা মাসীমা
থোড় বড়ি খাড়া পুরোনো পাজামা
পানসে চেহারা পারিনা মাসীমা

মজারবিন্দু - ৪ : নদীমাতৃক হতে যেও না গায়ে ঝিলমিল লেগে যাবে (ঁ)

গানের শিরোনামঃ সূর্যের দিকে
অ্যালবামঃ গাধা
............................................

সূর্যের দিকে চেও না চোখে ঝিলমিল লেগে যাবে
সূর্যগ্রহণের দিকে চেও না চোখে ঝিলমিল লেগে যাবে
সন্তজোহনের দিকে চেও না চোখে ঝিলমিল লেগে যাবে ।।

লেগে যাবে, খোঁচা খাবে
নির্জন নদিয়ায় 
কে হায় প্রেম বিলায়
ভূঁইফোড় ন্যাড়া মাথা ।।

পাক-পাখালির দিকে চেও না গায়ে ঝিলমিল লেগে যাবে
রাতে মা কালির দিকে চেও না চোখে ঝিলমিল লেগে যাবে
উগ্র আকালির দিকে চেও না বুকে ঝিলমিল লেগে যাবে

লেগে যাবে, ব্যাথা পাবে
ছোট আছ ছোট থাকো
সস্তা সাবান মাখো
ঘুরে দেখো কোলকাতা ।।

কারো লেখাপড়া ট্যান যাবে
কারো গিলে করা পাঞ্জাবি
কেহ জাহাপনা খাঞ্জা খাঁ
খেলে পিং পং বল
তুমি দোল খেলো হাজরাতে
তুমি উঠে বসো মাঝ রাতে
তুমি পুষে রাখ পাজ্রাতে
চোরা মফস্বল ।।

বলো কে হায় হৃদয় খুঁড়ে 
বেদনার ন্যাকা সুরে 
এঁকে যাবে লতাপাতা
এঁকে যাবে
বেঁকে যাবে
সকলই ফুরায়
ফুচকা ফ্রাই
পড়ে থাকে শালপাতা ।।

শালপিয়ালের বনে যেও না মনে ঝিলমিল লেগে যাবে
খেকশিয়ালের পানে চেও না ল্যাজে ঝিলমিল লেগে যাবে
সুর রিয়ালের দিকে চেও না ব্রেনে ঝিলমিল লেগে যাবে

লেগে যাবে
রেগে যাবে
চীনে বা জাপানে যাও
তাড়াতাড়ি চানে যাও
শুনে দেখো মা'র কথা ।।

কেউ মাধুরীর ফ্যানক্লাবে
কেউ চাকু হাতে চমকাবে
কেউ রাত্তিরে কম খাবে
হবে স্লিম ঝিম ট্রিম
ওরে আয় পাখি ল্যাজ ঝোলা
তোকে খেতে দেব কোকাকোলা
তুমি সন্ধ্যার মেঘোমালা
আমি গব্বর সিং ।।

আরে পাখি পাখি থাকে নাকি
তুমি শালা আনলাকি
নিজভূমে অন্তরীণ
ভিনদেশী খিঞ্জিবি
সমস্ত দিন কৌষ্ঠ্যকঠিন
হাসিমুখে আড্ডা দিন
ভিনদেশী খিঞ্জিবি
সমস্ত দিন কৌষ্ঠ্যকঠিন
হাসিমুখে আড্ডা দিন

বলে হ্যাট্রিক পেতে চেও না পায়ে ঝিলমিল লেগে যাবে
ন্যাড়া কার্তিক বনে যেও না প্রাণে ঝিলমিল লেগে যাবে
নদীমাতৃক হতে যেও না গায়ে ঝিলমিল লেগে যাবে
সেলুলয়েডের দিকে চেও না মনে ঝিলমিল লেগে যাবে
মার্ক্স-ফ্রয়েডের দিকে চেও না প্রাণে ঝিলমিল লেগে যাবে
পিঙ্ক ফ্লয়েডের দিকে যেও না কানে ঝিলমিল লেগে যাবে

মজারবিন্দু - ৩ :সুইটহার্ট আই অ্যাম সিটিং Alone (ঁ)

গানের শিরোনামঃ সুইটহার্ট
অ্যালবামঃ আর জানি না
.......................................

প্রথম কলেজের দিনটা
আজও ঠিক মনে পড়ে Sceneটা
প্রথম কলেজের দিনটা
আজও ঠিক মনে পড়ে Sceneটা
দাদা দিদি হাত ধরে
সিঁড়িতেই বসে পড়ে
দাদা দিদি হাত ধরে
সিঁড়িতেই বসে পড়ে
আমার চোখটা করে বন বন বন বন
সুইটহার্ট
আই অ্যাম সিটিং Alone
হেই সুইটহার্ট
For মি দেয়ার ইজ None

ঢোক গিলে চলে গেল প্রথম মাস
মেয়ে দেখলেই ফেলি দীর্ঘশ্বাস
ঢোক গিলে চলে গেল প্রথম মাস
মেয়ে দেখলেই ওঠে নাভিশ্বাস
মেয়েরা ভীষণ স্মার্ট
পরে ছোট মিনি স্কার্ট
মেয়েরা ভীষণ স্মার্ট
পরে ছোট মিনি স্কার্ট
আমারই যে শীত করে কন কন কন কন
সুইটহার্ট
আই অ্যাম সিটিং Alone
সুইটহার্ট
For মি দেয়ার ইজ None

তারপর কেটে গেল মাস চার
ফিউজ হল যে কত ফিউচার
তারপর কেটে গেল মাস চার
ফিউজ হল যে কত ফিউচার
বন্ধুরা বাস তুলে
একে ওকে তাকে তোলে
বন্ধুরা বাস তুলে
একে ওকে তাকে তোলে
আমার প্রাণটা করে চনমন চনমন
সুইটহার্ট
আই অ্যাম সিটিং Alone
সুইটহার্ট
For মি দেয়ার ইজ None

একদিন লন থেকে বেরিয়ে
এক তনায়ার দিকে তাকিয়ে
একদিন লন থেকে বেরিয়ে
এক তনায়ার দিকে তাকিয়ে
হট করে কি যে হল
মগজটা ঘুরে গেল
হট করে কি যে হল
মগজটা ঘুরে গেল
তার কানের সামনে করি ঘ্যান ঘ্যান ঘ্যান ঘ্যান
সুইটহার্ট
আই অ্যাম সিটিং Alone
সুইটহার্ট
For মি দেয়ার ইজ None

তারপর ক্লাস হত হেগুয়ায়
আমি নিয়ে কিংবা চাগুয়ায়
তারপর ক্লাস হত হেগুয়ায়
আমি নিয়ে কিংবা চাগুয়ায়
একদিন কাকে দেখে
আমাকে সাইডে রেখে
একদিন কাকে দেখে
আমাকে সাইডে রেখে
সজোরে সে হাঁটা দিল হন হন হন হন
সুইটহার্ট
আই অ্যাম Walking Alone
সুইটহার্ট
For মি দেয়ার ইজ None

কাটিয়ে গোটা পাঁচ উইকএন্ড
সাথে নিয়ে এল এক বয়ফ্রেন্ড
কাটিয়ে গোটা পাঁচ উইকএন্ড
সাথে নিয়ে এল এক বয়ফ্রেন্ড
আর আমার সাথে আলাপ করিয়ে দিয়ে বলল
এ আমার কেউ নয়
পিসতুতো ভাই হয়
এ আমার কেউ নয়
পিসতুতো ভাই হয়
শুনে মোর মাথা ঘোরে ভন ভন ভন ভন
সুইটহার্ট
আই অ্যাম সিটিং Alone
সুইটহার্ট
For মি দেয়ার ইজ None

মজারবিন্দু - ২ : বিয়ের আগেই আসল মজা ভিক্টোরিয়ায় বাদাম ভাজা (ঁ)

গানের শিরোনামঃ তা না না তানা না না না
অ্যালবামঃ চ
..............................................................

তা না না তানা না না না .....

আজকালকার মেয়েগুলো সব স্মার্ট
তারা পরে তলা কাটা মিনি স্কার্ট
হো বলো আজকালকার মেয়েগুলো সব স্মার্ট
তারা পরে তলা কাটা মিনি স্কার্ট
নেইকো ওদের হার্ট যে ওরা
করতে পারে Flirt যে ওরা
আর
আর দুদিন বাদেই
দুদিন বাদেই রিলেশন কাট
হো হো হো

তা না না তানা না না না .....

আজকালকার মেয়েগুলো সব ট্যাশ
তারা বোঝে কেবল তুমি আমি ব্যাস
হৈ হৈ আজকালকার মেয়েগুলো সব ট্যাশ
তারা বোঝে কেবল তুমি আমি ব্যাস
বিয়ের আগেই আসল মজা
ভিক্টোরিয়ায় বাদাম ভাজা
আর ঐ বিয়ের পরেই
বরের পকেট থেকে হাপিস করে ক্যাশ
হো হো হো

তা না না তানা না না না .....

আজকালকার মেয়েগুলো সব ক্যাট
মুখে লেগেই আছে ইংরেজি ফ্যাটফ্যাট
আরে আজকালকার মেয়েগুলো সব ক্যাট
মুখে লেগেই আছে ইংরেজি ফ্যাটফ্যাট
সাজেগোজে শ্রী দেবী
মনেতে সব ফুলন দেবী
আর
ঐ আরশোলাটা 
ঐ আরশোলাটা দেখলে পরেই ফ্ল্যাট
হো হো হো

তা না না তানা না না না .....

ওরা চয়েস করে ক্যান্টিনের ঐ কোণ
যদি পাশে বসে কোন প্রিয়জন
ওরা চয়েস করে ক্যান্টিনেরই ঐ কোণ
যদি পাশে বসে কোন প্রিয়জন
চোখে চোখে কত কথা
যত রকম আদিখ্যেতা
আর
আর স্যার এলেই
ওই স্যার এলেই সাজে ভাইবোন

তা না না তানা না না না .....

বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মজারবিন্দু-১ : ত্বকের যত্ন নিন (ঁ)

গানের শিরোনামঃ ত্বকের যত্ন নিন
অ্যালবামঃ ত্বকের যত্ন নিন
........................................

কুচি কুচি করে কেঁটে শসা ব্যাসন টুকু নিন তুলে
ফিরে যাবে চামড়ার দশা রাত্রে লাগিয়ে গালে শুলে
আয়নার সামনেতে কেন লিখে দিন কাটজিন তাতে
মেহেদি গোলাই তো আছে ডিম ফেটিয়ে নিন তাতে
এরপর বাথরুমে মেখে নিন চুপি চুপি
ত্বকের যত্ন নিন .......

এমনিতে দুধ খেতে ভালো আরো ভালো সরটুকু খেতে
লোভে পড়ে খাবেন না যেন লাগান নাকের সামনেতে
এর ফলে উপকার পাবেন চামড়া যাবেনা এতে ফেটে
জ্বিব যদি সুকসুক করে সামান্য খেয়ে নিন চেটে
দেখবেন কি দারুন মাদার ডেয়ারি খেতে
ত্বকের যত্ন নিন.....

চোখের দৃষ্টি হবে গাঢ় নিয়মিত দিলে মাসকারা
মনমত সঙ্গিও পাবেন চটকরে যাবে বশকরা
ত্বক যত চকচকে হবে চোখের চামড়া হবে পুরু
পথেঘাটে শুনতেও পাবেন কি জিনিস বানিয়েছ গুরু
ল্যাজকাটা প্রেমিকের ডানাকাটা পরী হোন
ত্বকের যত্ন নিন .......

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

অঞ্জন - ২১ : তুমি না থাকলে

গানের শিরোনামঃ তুমি না থাকলে
অ্যালবামঃ শুনতে কি চাও?
.........................................

(১)

তুমি না থাকলে সকালটা এত মিষ্টি হত না
তুমি না থাকলে মেঘ করে যেত বৃষ্টি হত না
তুমি না থাকলে সকালটা এত মিষ্টি হত না
তুমি না থাকলে মেঘ করে যেত বৃষ্টি হত না
তুমি না থাকলে মন কষাকষি 
করে হাসাহাসি নাক ঘষাঘষি
রা পা রা পাপ্পা রাম পাম পা

তুমি না থাকলে চাঁদটার গায় পড়ে যেত মরচে
তুমি না থাকলে কিপটে লোকটা হত না যে খরচে
তুমি না থাকলে স্বপ্নের রং হয়ে যেত খয়েরী
বনবন করে দুনিয়াটা এই পারত না ঘুরতে
তুমি না থাকলে রবীন্দ্রনাথ
কালির দোয়াত মাথায় ঠুকে হত কুপোকাত
রা পা রা পাপ্পা রাম পাম পা

তুমি না থাকলে সুমন কেলেঙ্কারী করত কত
গিটার ফেলে গুয়াতেমালায় নামতা শেখাতে হত
পাশের বাড়ির মেয়েটা পাশের পাড়ার ছেলের সাথে
তুমি না থাকলে এইভাবে কি বাড়িটা ছেড়ে পালাত
তুমি না থাকলে তাহমহলটা বানানোই হত না
লাঠালাঠি এই কাটাকাটি কিছু থামানো যেত না
তুমি না থাকলে মোনালিসা কবে হয়ে যেত গম্ভীর
তুমি না থাকলে তোমার চিঠি জমানোই হত না
তুমি না থাকলে রোমিও কবে
হোমিওপ্যাথির দোকান খুলে জমিয়ে দিত
রা পা রা পাপ্পা রাম পাম পা


(২)

তুমি না থাকলে সকালটা এত মিষ্টি হত না
তুমি না থাকলে মেঘ করে যেত বৃষ্টি হত না
তুমি আছ বলে মন কষাকষি 
করে হাসাহাসি নাক ঘষাঘষি
রা পা রা পাপ্পা অং ভং ছং
ও ইয়ে অ ইয়ে

তুমি না থাকলে গড়ের মাঠটা মাঠেই মারা যেত
তুমি না থাকলে গড়িয়া হাটটা গুয়াতে মালার মত
তুমি না থাকলে গাইত না গান গুপি বাঘার দল
মোহন বাগান কবে হয়ে যেত শুধু ইস্টবেঙ্গল

তুমি আছ বলে টেক্সাসে বসে তোপসে মাছের ফ্রাই
নিউজার্সিতে তোমার গাড়িতে হঠাৎ তোমাকে চাই
তুমি আছ বলে সিসিলিতে আছে সুচিত্রা উত্তম
আজ বাগদাদ কাল ব্যাবিলনে তোমার সম্মেলন
তুমি না থাকলে সুকুমার রায়
লুঙ্গি পরে গামছা গলায় খবর পড়ত
রা পা রা পাপ্পা অং ভং ছং

তুমি না থাকলে সুমনের নাম হয়ে যেত নচিকেতা
তুমি আসবে বলেই লিখত না কেউ তোমার মনের কথা
তুমি না থাকলে কবিতার মানে হয়ে যেত কীর্তন
তুমি না থাকলে সুনীল-শক্তি হয়ে যেত সনাতন
তুমি না থাকলে ঊষা উত্তুক কোচিংযেই থেকে যেত
গাইত না গান পাড়ায় পাড়ায় তোমার মনের মত
তুমি না থাকলে অ্যারাবিয়ানের নামচির মুম্বাই
তুমি না থাকলে কোলকাতা ছেড়ে কবে টা টা বাই বাই 
তুমি না থাকলে বনলতাসেন
সকাল সন্ধ্যে ডাক্তারলেনে কাপড় কাঁচত
রা পা রা পাপ্পা অং ভং ছং
তুমি না থাকলে ...

তুমি না থাকলে দেবদাস কবে হয়ে যেত ক্ষুদিরাম
তুমি না থাকলে শুধু ডানদিক থাকত না কোনো বাম
ধর্মতলায় লেগে যেত রোজ ধর্মের যুদ্ধ
তুমি না থাকলে বেচত বিড়ি গৌতম বুদ্ধ
তুমি না থাকলে রবীন্দ্রনাথ
কালির দোয়াত মাথায় ঠুকে হত কুপোকাত
রা পা রা পাপ্পা রাম পাম পা অং ভং ছং
তুমি না থাকলে ....

অঞ্জন - ২০ : বন্ধুর পোস্ট খালি হলে ডেক তাড়াতাড়ি

গানের শিরোনামঃ বন্ধুর খোঁজ
অ্যালবামঃ ইচ্ছে করেই একসাথে
.................................................

বন্ধুর খোঁজ চাইলে আমায় জোরে দিও ডাক
হাতের মুঠোয় জ্যোৎস্না পুরে আমায় দিও ভাগ
মনের মত বন্ধু পাওয়া সহজ কথা নয়
আমার মত সবাই তো আর বেকার বসে নয়
বেকার বলেই বসে আছি বেকার মন নিয়ে
চাইলেই তুমি নিতে পারো মনেরই ভাগ দিয়ে
বেকার মানেই চাকরি নাইরে গোঁফের নিচে দাঁড়ি
বন্ধুর পোস্ট খালি হলে ডেকো তাড়াতাড়ি

চাকরি আমার খুব জরুরী যেমন খুশি হোক
তবেই কেবল সারতে পারে মনের শত রোগ
বেকার বলেই হয়ত আমার হাজার স্বাদ জাগে
স্বাদটা যতই হোক না ছোট সাধ্য থাকা লাগে
সাধ্য আমার নেই বলেই তো একলা বসে আছি
চাইলে তুমি খেলতে পারো শখের এই কানামাছি
বেকার মানেই আসল ছাড়া সুদটাই বাড়াবাড়ি
বন্ধুর পোস্ট খালি হলে ডেকো তাড়াতাড়ি

বন্ধু হবার যোগ্য কি না পরখ কর আজি
তোমার মত চাঁদকে নিয়ে ধরব আকাশ বাজি
অভিজ্ঞতা চাই কি তোমার বন্ধুত্বের জন্যে
মুখের কথায় দেবে সনদ কেমন করে অন্যে
সনদ আমার নেই বলেই তো নিত্য খুঁজি তাকে
চাইলেই তুমি দিতে পারো প্রথম সনদটাকে
বেকার মানেই জোড় লাগে না কেবল ছাড়াছাড়ি
বন্ধুর পোস্ট খালি হলে ডেকো তাড়াতাড়ি

বন্ধুর খোঁজ চাইলে আমায় জোরে দিও ডাক
হাতের মুঠোয় জ্যোৎস্না পুরে আমায় দিও ভাগ
মনের মত বন্ধু পাওয়া সহজ কথা নয়
আমার মত সবাই তো আর বেকার বসে নয়
বেকার বলেই বসে আছি বেকার মন নিয়ে
চাইলেই তুমি নিতে পারো মনেরই ভাগ দিয়ে
বেকার মানেই চাকরি নাইরে গোঁফের নিচে দাঁড়ি
বন্ধুর পোস্ট খালি হলে ডেকো তাড়াতাড়ি

অঞ্জন - ১৯ : আমি আসব ফিরে হঠাৎ অসময়

গানের শিরোনামঃ অসময়
অ্যালবামঃ অসময়
......................................

সেই মন প্রাণ খুলে গল্প করার দিন শেষ
শুধু তাড়াহুড়ো করে যদি কিছু কথা বলে ফেলা যায়
সময় যা ছিল হাতে সবটাই নিঃশেষ
পড়ে আছে শুধু অজস্র অসময়
তাই হলদে পাখিরা এই শহরে আর ফিরে আসে না
শুধু বেড়ে চলে ডিজেলের ধোঁয়া রাস্তায়
সেই ল্যাংটা ছেলের দল ফুটপাত ঘিরে আর হাসে না
বেড়ে গেছে রাতারাতি বয়স অসময়
তাই বৃষ্টি নামলে পরে মন আর জুড়িয়ে যায় না
শুধু চাপ চাপ কাদা প্যাচপ্যাচে সংশয়
কারো মুখে আর কোন মিষ্টি হাসি মানায় না
তেঁতো হয়ে গেছে সব হঠাৎ অসময়
তাই কোনদিন যদি একা একা একা জানলার পাশে
কোন খয়েরী বিকেল বেলা কান্না পেয়ে যায়
নিয়ে কথার ছলে শেওলায় ভেজা গানটা আমার
ফিরে আসব তোমার কাছে হঠাৎ অসময়

আজ বৃষ্টি নামবে বলে বেড়ে গেছে তাড়াহুড়ো সকলের
ভাসবেনা নীল কাগজের নৌকো নালায়
আজ তাড়াহুড়ো করে গিয়ে ঘরের দরজাটা বন্ধ
ভেসে যাবে শরীর আবার অসময়
তাই স্যাঁতস্যাঁতে সকলের ঘর-দোর চৌকাঠ
রোদের রং শুধু বদলায় আকাশের গায়
মনের ভেতর সব হয়ে গেছে অকারণ ফ্যাকাশে
বিস্বাদে ভরা চোখ দেখে যায় অসময়
তাই হলদে পাখিরা এই শহরে আর ফিরে আসে না
শুধু বেড়ে চলে ডিজেলের ধোঁয়া রাস্তায়
সেই ল্যাংটা ছেলের দল ফুটপাত ঘিরে আর হাসে না
বেড়ে গেছে রাতারাতি বয়স অসময়
তাই কোনদিন যদি একা একা একা জানলার পাশে
কোন খয়েরী বিকেল বেলা কান্না পেয়ে যায়
কথার ছলে এই গানটা তোমার কাছে
নিয়ে আসব ফিরে হঠাৎ অসময়
আমি আসব ফিরে হঠাৎ অসময়
আমি আসব ফিরে সময় অসময়
নিয়ে আসব ফিরে হঠাৎ অসময়

অঞ্জন - ১৮ : তুমি আসবে বলে তাই আমি স্বপ্ন দেখে যাই

গানের শিরোনামঃ তুমি আসবে বলে  
অ্যালবামঃ পুরোনো গিটার
...........................................
তুমি আসবে বলে তাই
আমি স্বপ্ন দেখে যাই
আর একটা করে দিন চলে যায়
সুদিন আসবে বলে ওরা আগুন জালায়
আর হাজার হাজার মানুষ মরে যায়
দেখবে বলে আকাশটাকে মাথা উচু করে
শুধুই নোংরা কালো ধোয়া দেখে যায়
কাছে আসবে বলে অন্ধকারে হাতড়ে মরে ওরা
তবু শরীর দুটো থাকে আলাদা
আমার মনটা তবু আশা করে যায়
এই মনটা তবু ভালোবাসতে চায়
এই মন আশা করে যায়

সময় ছুটে চলে আমি আটকে পড়ে রই
আমার রাস্তা ঘাটে আমি হাঁটি না
চোখে নিয়ে স্বপ্ন বুকে অনেক অনেক কথা
আমার বয়স বাড়ে আমি বাড়ি না
তুমি আসবে বলে তাই
আমি স্বপ্ন দেখে যাই
আর একটা করে দিন চলে যায়
সুদিন আসবে বলে ওরা আগুন জালায়
আর বেকার কিছু মানুষ মরে যায়
আমার মনটা তবু আশা করে যায়
এই মনটা তবু ভালোবাসতে চায়
এই মন আশা করে যায়

অঞ্জন - ১৭ : এতো সবই তোমার সকাল বেলার খিদে

গানের শিরোনামঃ সকাল বেলার খিদে
 অ্যালবামঃ কলকাতা-16
.............................................

বন্যার জলে বহরমপুর ভাসছে মেদিনীপুর খরার কবলে
দুজন মৃত পূজোর ভিড়ের চাপে দু’শো জন অনাহারে
নতুন একটা আয়ুর্বেদিক বড়ি পেটের খিদে দিব্যি ভুলিয়ে দেয়
আকাশ থেকে নিয়ন পেপসি ডাকে যেন রেশন মিক্সড বেচতে চায়
এতো সবই তোমার সকাল বেলার খিদে সন্ধ্যে বেলা যাবে ফুরিয়ে
দেখতে দেখতে আরো একটা দিন চলে যাবে জীবন থেকে হারিয়ে

গরম গরম খাবারের খবর কম্পিউটারে বানানো আচার
বেছে নাও কোনটা তোমার চায় যেটা পছন্দ যার
চায়ের কাপটা হয়ে যাবে শিম্পাঞ্জি তোমার টিভির পর্দায়
ডিজিটাল ইদুঁর নাচতে নাচতে নামতা পড়তে শেখায়
এতো সবই তোমার সকাল বেলার খিদে সন্ধ্যে বেলা যাবে ফুরিয়ে
দেখতে দেখতে আরো একটা দিন চলে যাবে জীবন থেকে হারিয়ে

দেশোপ্রেমের জন্য আছে আণবিক মশলায় এক্সিমা, দাদের  মলম
আছে পঞ্চাশ বছরের মিথ্যে গিলে ফেলা সিনথেটিক বন্দে মাতরম
আছে বিশ্বের জঞ্জাল হজম করে ফেলার চৌক মধ্যবিত্ত রেসিপি
যখন তখন ঘরে বসে চেখে দেখে নাও তোমার জননী জন্মভূমি
ম্যাট্রিকেতে পঞ্চান্ন পায়নি তাই আত্মঘাতি হল একটা মেয়ে
ঘুষ দিলে তোমার ছেলে রোল নম্বর পাবে ইংরেজী স্কুলে
এতো সবই তোমার সকাল বেলার খিদে সন্ধ্যে বেলা যাবে ফুরিয়ে
দেখতে দেখতে আরো একটা দিন চলে যাবে জীবন থেকে হারিয়ে

কত ডলার কত ডলার চাই বিক্রি হতে রাজি কোন দল
তুমি আমি স্কোর গুণে যাব ঠিক হয়ে গেছে খেলার ফলাফল
রাখে হরি মারে কে দাদা ওরা বলিউডের রাজার ছেলেমেয়ে
তাই খেলার ছলে হরিণ মেরে বেড়ায় শুটিং এর অবসরে
মসজিদ ভেঙে মন্দির বানাবো গির্জার ভেতরে রে
এমন কি নতুন কথা বল সেক্সলাইজার আর ভিডিওতে
এতো সবই তোমার সকাল বেলার খিদে সন্ধ্যে বেলা যাবে ফুরিয়ে
দেখতে দেখতে আরো একটা দিন চলে যাবে জীবন থেকে হারিয়ে


কত খাবার কত খাবার চায় খিদের জালায় মরছে স্যাটেলাইট
চব্বিশ ঘন্টার খিদে তবু খালি খালি খালি খাই খাই
পলেস্তারা খসা সংস্কৃতি মেরাওয়ালা রং চাপাও
জং ধরা পুরোনো সুড়সুড়ি রিমেক করে আবার বেচে দাও
কমলা লেবুর খোসা বেটে মুখে মাখলে পরে ত্বক তোমার থাকবে পরিষ্কার
চাকরি না পেলে ফলিডল খেলে কমবে বেকারত্বের হার
এতো সবই তোমার সকাল বেলার খিদে সন্ধ্যে বেলা যাবে ফুরিয়ে
দেখতে দেখতে আরো একটা দিন চলে যাবে জীবন থেকে হারিয়ে